অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন ২০২৬ (মাত্র ৩০ সেকেন্ডে)
জন্ম সনদ যাচাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির আবেদন কিংবা যেকোনো সরকারি সেবা নিতে গেলে জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য সঠিক এবং ডিজিটাল আকারে থাকা আবশ্যক।
এই পেজে আপনি জানতে পারবেন জন্ম সনদ যাচাই করার সম্পূর্ণ নিয়ম, কম্পিউটার ও মোবাইল উভয় মাধ্যমে যাচাই করার পদ্ধতি, যাচাই কপি ডাউনলোড করার উপায়, সাধারণ সমস্যার সমাধান এবং আরও অনেক কিছু। পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
জন্ম সনদ যাচাই করতে যা যা লাগবে
যাচাই করার আগে নিচের দুইটি তথ্য হাতের কাছে রাখুন
নোট: সনদে যদি ১৩ কিংবা ১৬ সংখ্যা থাকে অথবা সনদটি হাতে লেখা হয়, তাহলে যাচাই করার আগে সেটি ডিজিটাইজড করে নিতে হবে। এই বিষয়ে নিচে আলাদা অংশে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন
জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই করতে চাইলে সবার আগে everify.bdris.gov.bd এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে প্রথম বক্সে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার বসিয়ে দিন। এরপরের বক্সে জন্ম তারিখ দিতে হবে, যা লিখতে হবে বছর, মাস, দিন এই ক্রমে। এরপর স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা ছবিটি দেখে সেই কোড নির্দিষ্ট বক্সে টাইপ করুন এবং Search বাটনে চাপ দিন, ফলে জন্ম সনদ যাচাই হয়ে যাবে।
এছাড়া, আরেকটি সহজ উপায় হলো নিচে দেওয়া ফরমটি ব্যবহার করা। এখানেও প্রথম বক্সে সনদ নাম্বার এবং দ্বিতীয় বক্সে বছর-মাস-দিন অনুযায়ী জন্ম তারিখ লিখতে হবে। তথ্য পূরণ শেষে জন্ম নিবন্ধন যাচাই বাটনে চাপ দিলে একটি নতুন পেজ ওপেন হবে। ওই পেজে একটি নতুন ক্যাপচা কোড দেখা যাবে, যা নির্ধারিত ঘরে বসিয়ে আবার Search বাটনে ক্লিক করলে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন
Birth Registration Verification
জন্ম সনদ যাচাই করার ধাপসমূহ
ধাপ ১ ফরমের প্রথম বক্সে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম্বারটি লিখুন।
ধাপ ২ দ্বিতীয় বক্সে জন্ম তারিখ লিখুন। তারিখ লেখার নিয়ম হলো আগে বছর, তারপর মাস, সবশেষে দিন।
ধাপ ৩ জন্ম নিবন্ধন যাচাই বাটনে ক্লিক করুন। এতে স্ক্রিনে একটি নতুন পেজ খুলে যাবে।
ধাপ ৪ নতুন পেজে একটি ক্যাপচা কোড দেখতে পাবেন। কোডটি খালি ঘরে বসিয়ে দিন।
ধাপ ৫ Search বাটনে ক্লিক করুন। ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার জন্ম সনদের তথ্য যাচাই হয়ে যাবে।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে everify.bdris.gov.bd সাইটে আলাদাভাবে গিয়ে তথ্য পূরণের প্রয়োজন হয় না। উপরের ফরমে একবার তথ্য দিয়ে বাটনে ক্লিক করলেই সরকারি সাইটের ঘরগুলো নিজে থেকেই পূরণ হয়ে যায়। এরপর শুধু ক্যাপচা কোডটি বসিয়ে Search বাটনে চাপ দিলেই যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
১৩ বা ১৬ সংখ্যার সনদ থেকে ১৭ সংখ্যায় রূপান্তর
পুরোনো অনেক জন্ম সনদে ১৩ কিংবা ১৬ সংখ্যা থাকে, যা বর্তমান অনলাইন সিস্টেমে সরাসরি যাচাই করা যায় না। এক্ষেত্রে
জন্ম সনদ যাচাই কেন জরুরি
জন্ম সনদ যাচাই করলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে
বর্তমানে ১৭ সংখ্যার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন ছাড়া পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রায় সব ধরনের সরকারি কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সনদ হাতে পাওয়ার পর অনলাইনে একবার যাচাই করে নেওয়া উচিত।
জন্ম সনদ যাচাইয়ের নিয়মাবলী
ধাপ ১। ব্রাউজার খুলে সরাসরি everify.bdris.gov.bd ঠিকানায় যান। এটিই একমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট, যেখান থেকে জন্ম সনদ যাচাই করা যায়।
ধাপ ২। প্রথম ঘরে আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন। কোনো স্পেস কিংবা অতিরিক্ত সংখ্যা যেন না থাকে, শুধু ইংরেজি সংখ্যা ব্যবহার করুন।

ধাপ ৩। দ্বিতীয় ঘরে জন্ম তারিখ লিখুন YYYY MM DD ফরম্যাটে। যেমন কারো জন্ম তারিখ ১০ জুন ২০০১ হলে সেটি লিখতে হবে 2001-06-10 আকারে। প্রথমে সাল, তারপর মাস, সবশেষে দিন।
ধাপ ৪। স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোডটি সমাধান করে নির্ধারিত ঘরে লিখুন।
ধাপ ৫। Search বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য সঠিক হলে জন্ম নিবন্ধন সনদের সম্পূর্ণ বিবরণ স্ক্রিনে চলে আসবে।


উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি সহজেই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তবে তথ্য যাচাই করার সময় যদি Record Not Found লেখা দেখতে পান, তাহলে বুঝতে হবে আপনার দেওয়া তথ্যে কোথাও ভুল রয়েছে।
এমন হলে প্রথমে জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম্বার এবং জন্ম তারিখ আবার মিলিয়ে দেখুন এবং সঠিক ফরম্যাটে লিখুন। এরপর ক্যাপচা কোডটি আবার পূরণ করে যাচাই করুন।
এরপরও যদি Record Not Found দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদটি এখনো ডিজিটাল করা হয়নি।
পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজে বুঝতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।
জন্ম সনদ যাচাই কপি ডাউনলোড করার নিয়ম (পিডিএফ)
সরকারি ওয়েবসাইটে সরাসরি ডাউনলোড বাটন নেই, তবে যাচাই কপি সংরক্ষণ করা সহজ।
কম্পিউটারে

মোবাইলে

এই যাচাইকৃত পিডিএফ কপি প্রায় সব ধরনের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করা যায়।
সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান
No Record Found সমস্যা
সম্ভাব্য কারণ
সমাধান
ওয়েবসাইট লোড না হওয়া বা Timeout সমস্যা
সম্ভাব্য কারণ
সমাধান
অনুরোধের সময়সীমা শেষ
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সময় বা সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ব্যবহার করার সময়, ব্যবহারকারীরা প্রায়শই ‘রিকোয়েস্ট টাইমআউট’, ‘সার্ভার এরর’ বা ‘সার্ভার বিজি’-র মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। সাধারণত যখন BDRIS সার্ভার অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে বা একই সময়ে অনেক বেশি অনুরোধ সামলাতে পারে না, তখন এমনটা ঘটে।
এই সমস্যার পেছনের সাধারণ কারণগুলি
আপনি কীভাবে এটি ঠিক করতে পারেন
সনদে ভুল তথ্য
নাম, জন্ম তারিখ বা পিতামাতার তথ্যে ভুল থাকলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করতে হবে। এই আবেদন অনলাইনে অথবা স্থানীয় অফিসে গিয়ে জমা দেওয়া যায়।
জন্ম সনদ হারিয়ে গেলে করণীয়
জন্মনিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, যা খুবই স্বাভাবিক। স্কুল-কলেজে ভর্তি, পাসপোর্টের আবেদন এবং আরও অনেক সরকারি ও দাপ্তরিক কাজে এই নথিপত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মূল কপিটি হারিয়ে গেলেও এটি পুনরায় পাওয়ার ভালো সুযোগ রয়েছে।
জন্মনিবন্ধন সনদ হারিয়ে যাওয়ার সাধারণ কারণসমূহ
এটি যেভাবে পুনরুদ্ধার করবেন
সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার হারিয়ে যাওয়া জন্মনিবন্ধন সনদের একটি নতুন কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। জন্মনিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা বিস্তারিত জানতে আমাদের সম্পূর্ণ নির্দেশিকাটি পড়ুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
উপসংহার
জন্ম সনদ যাচাই একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করে যে কেউ কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজের অথবা অন্য কারো জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। তথ্য যাচাই করার পর যদি সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমে নম্বর ও তারিখ আবার মিলিয়ে নিন, এরপরও সমাধান না হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে যোগাযোগ করুন। সনদটি এখনও ডিজিটাল না হলে দেরি না করে এখনই সেটি ডিজিটাইজড করিয়ে নিন, কারণ একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল জন্ম সনদ এখন আর ঐচ্ছিক নয়, এটি একটি প্রয়োজনীয়তা।
