জন্ম সনদের ফি ২০২৬ | বিস্তারিত নির্দেশিকা

নতুন শিশুর জন্ম নিবন্ধন করতে যাওয়ার সময় বা নিজের প্রয়োজনে জন্ম সনদ বানাতে গেলে সবার আগে যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হলো, এতে কত টাকা খরচ হবে। সংশোধনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, আর অনেকেই এই সহজ তথ্যটুকু না জানার কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। সংক্ষেপে বলতে গেলে, শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না, একদম বিনামূল্যে করা যায়। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে বয়সভেদে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ফি প্রযোজ্য হয়, এবং সংশোধন বা নকল কপির জন্যও আলাদা ফি নির্ধারিত আছে।

সঠিক তথ্য না জানার কারণে অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়ে সরকারি ফি-র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে ফেলেন। অথচ সরকার নির্ধারিত ফি খুবই সামান্য, কিছু ক্ষেত্রে একেবারে ফ্রি। এই লেখায় নতুন নিবন্ধন, সংশোধন এবং নকল কপি তোলার সবগুলো ফি এক জায়গায় দেওয়া হলো, যাতে আপনি নিশ্চিন্তে সঠিক তথ্য জেনে কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন।

জন্ম সনদের ফি ২০২৬

সঠিক ফি জানা কেন জরুরি

জন্ম নিবন্ধন এখন নাগরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাগজ। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট তৈরি, জমি রেজিস্ট্রি এমনকি বিয়ের কাবিননামা পর্যন্ত সবখানেই এটি লাগে। এই চাহিদার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কম্পিউটার দোকান বা কিছু অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে।

সরকারি ওয়েবসাইট বা পরিপত্র অনুযায়ী সঠিক ফি জানা থাকলে কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সেটা প্রতিরোধ করা সহজ হয়।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন ফি

নতুন জন্ম নিবন্ধনের ফি বয়সভেদে আলাদা। দেশে এবং প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও আলাদা হার নির্ধারিত আছে।

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের ফি

আমাদের দেশে নতুন নিবন্ধনের চেয়ে তথ্য সংশোধনের কাজ অনেক বেশি হয়। নামের বানান ভুল, জন্ম তারিখ ভুল বা পিতা মাতার নামে ভুল এসব প্রায় নিত্যদিনের সমস্যা। সংশোধনের জন্যও সরকার নির্দিষ্ট ফি বেঁধে দিয়েছে।

  • জন্ম তারিখ সংশোধনের ফি ১০০ টাকা, বিদেশে অবস্থানরতদের জন্য ২ মার্কিন ডলার
  • নাম, পিতা মাতার নাম বা ঠিকানার মতো অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ফি ১০০ টাকা, বিদেশে অবস্থানরতদের জন্য ২ মার্কিন ডলার

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ একই আবেদনে যদি নিজের নাম, পিতা মাতার নাম এবং ঠিকানা একসাথে সংশোধন করেন, তাহলেও ফি সেই ১০০ টাকাই থাকবে। প্রতিটি ভুলের জন্য আলাদা করে ১০০ টাকা দিতে হয় না, যদি একই আবেদনে সব সংশোধন করা হয়।

মূল সনদ বা ডুপ্লিকেট কপি তোলার ফি

মূল কপি হারিয়ে গেলে, নষ্ট হয়ে গেলে বা আগে শুধু বাংলায় থাকা সনদটি এখন বাংলা ইংরেজি উভয় ভাষায় প্রয়োজন হলে ফি এর হিসাব আলাদা।

  • তথ্য সংশোধনের পর প্রথমবার বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের কপি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়
  • সনদ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে ডুপ্লিকেট বা নকল কপি তোলার ফি ৫০ টাকা, বিদেশে অবস্থানরতদের জন্য ১ মার্কিন ডলার

কীভাবে ও কোথায় ফি জমা দেবেন

অনেকেই bdris.gov.bd পোর্টালে আবেদন করার পর বুঝতে পারেন না টাকাটা ঠিক কোথায় জমা দেবেন। মূলত দুটি উপায় আছেঃ

  • অনলাইন পেমেন্ট, এ চালানঃ আবেদনের শেষ ধাপে অনেক এলাকায় সরাসরি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের অপশন থাকে, এটি সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি
  • ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসঃ অনলাইনে পেমেন্ট অপশন না পেলে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে জমা দেওয়ার সময় নগদ টাকা দেওয়া যায়, এক্ষেত্রে অবশ্যই টাকা জমার রশিদ চেয়ে নিতে হবে

দালাল বা অতিরিক্ত টাকা থেকে বাঁচার উপায়

  • নিজে আবেদন করুন, স্মার্টফোন দিয়ে খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন করা যায়, শুধু স্ক্যান করা কিছু কাগজের ছবি লাগে
  • রশিদ ছাড়া কোনো টাকা দেবেন না, কেউ সরকারি ফি-র চেয়ে বেশি চাইলে ফি জমা দেওয়ার সরকারি রশিদ দেখতে চান
  • নিজে আবেদন করতে না পারলে কম্পিউটার দোকান থেকে করানো যায়, তারা সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নিতে পারে, এটি তাদের পারিশ্রমিক, সরকারি ফি এর সাথে এটি গুলিয়ে ফেলবেন না
  • ফি জমা দেওয়ার প্রতিটি রশিদ সংরক্ষণ করুন, ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা হলে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে

আরও পড়ুন: জন্ম সনদ যাচাইকরণ
আরও পড়ুন: নতুন জন্ম সনদ নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আরও পড়ুন: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করুন
আরও পড়ুন: জন্ম সনদ বাংলা থেকে ইংরেজিতে রূপান্তর
আরও পড়ুন: হারানো জন্ম সনদ

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

একটি আবেদনের মাধ্যমেই নাম এবং জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য সাবমিট করলে মোট ১০০ টাকাই সরকারি ফি হিসেবে দিতে হবে।

বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল জন্ম সনদের একটি অনুলিপি বা কপি সংগ্রহ করতে সরকার নির্ধারিত ফি হলো ৫০ টাকা। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের পর প্রথমবারের জন্য সনদের কপিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।

হ্যাঁ, শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে দেশে ও প্রবাসে উভয় ক্ষেত্রেই কোনো ফি লাগে না, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়।

জন্ম তারিখ ছাড়া অন্যান্য তথ্য যেমন নাম, পিতা-মাতার নাম বা ঠিকানা সংশোধনের জন্য ফি বাংলাদেশে ৫০ টাকা এবং প্রবাসে ১ মার্কিন ডলার।

জন্মের ৫ বছর পর নিবন্ধন করতে চাইলে দেশের অভ্যন্তরে ফি ৫০ টাকা এবং প্রবাসীদের জন্য ১ মার্কিন ডলার।

হ্যাঁ, অনলাইনে পেমেন্ট অপশন না থাকলে আবেদন প্রিন্ট করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট অফিসে নগদ টাকা জমা দেওয়া যায়, তবে রশিদ নেওয়া বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন ফি নিয়ে যত দ্বিধা থাকে, সঠিক তথ্য জানা থাকলে তার প্রায় সবটাই দূর হয়ে যায়। সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করলে সময় ও টাকা দুটোই বাঁচে, এবং দালালের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকিও কমে যায়।